ঢাকা, ২০ জুলাই, ২০১৯ || ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
২৬০

‘চেকোলজি’ যাচাই করবে ফেক নিউজ

ফ্লাইটনিউজ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  


টুইটারে সঠিক ও তথ্যনির্ভর খবর খুব কম ক্ষেত্রেই এক হাজারের বেশি লোকের কাছে পৌঁছায়। অন্যদিকে, এক শতাংশ মিথ্যা খবর (ফেক নিউজ) এক হাজার থেকে এক লাখ লোক শেয়ার করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মিথ্যা সংবাদের এমন আধিক্যের যুগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা চেকোলজি পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্বের ৯০টি দেশের ছাত্রদের শেখানো হচ্ছে—  কীভাবে খবর এবং অন্যান্য তথ্যকে যাচাই করতে হবে। সংস্থাটি নিউজ লিটারেসি প্রজেক্ট নামে তাদের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   

নিউজ লিটারেসি প্রজেক্টের প্রধান অ্যালান সি মিলার সম্প্রতি ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চেকোলজি নামের একটি পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা ছাত্রদের শেখানোর চেষ্টা করি, কীভাবে কোনও তথ্যকে বিশ্বাস ও শেয়ার করতে হবে। এই চেকোলজি হচ্ছে একটি ভার্চুয়াল ক্লাসরুম যেখানে এসব শেখানো হয়। আপনারা বলতে পারেন আমরা মিথ্যা সংবাদের অ্যান্টিডোট।’

মিলার বলেন, ‘প্রতি মিনিটে ইউটিউবে ৪৩ লাখ ভিডিও দেখা হয়, ১ দশমিক ৮ কোটি টেক্সট মেসেজ করা হয় এবং ৩ দশমিক ৭৫ লাখ অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়। কোনও ব্যক্তি যদি এই গোটা বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায় বা অন্যকে ধোঁকা দিতে চায়, তবে তাদেরকে বাধা দেওয়ার মতো কোনও ব্যবস্থা নেই।’

গোটা বিষয়টির ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য তিনি বলেন, ‘গুগল প্লে স্টোরে অ্যান্ড্রয়েড সেটে ব্যবহারযোগ্য অনেক অ্যাপ আছে, যেগুলোর মাধ্যমে ইচ্ছামতো মিথ্যা খবর তৈরি করা যায়। এমনকি শুধু মিথ্যা খবর  টুইট বা ওয়েবসাইট নয়, এখন নকল চেহারাও বানানো সম্ভব। এনভিডিয়া নামে একটি কোম্পানি আছে, যারা নকল চেহারা বানানোর অ্যাপ তৈরি করেছে। তারা একই সঙ্গে আরেকটি অ্যাপ তৈরি করেছে, যেটি দিয়ে নকল চেহারা ধরা যায়। তারা প্রথম অ্যাপ দিয়ে একটি নকল চেহারা তৈরি করে এবং দ্বিতীয় অ্যাপ দিয়ে সেটিকে পরীক্ষা করতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না নকল চেহারা নিখুঁত হয় এবং দ্বিতীয় অ্যাপটি সেটি ধরতে ব্যর্থ হয়।’

মিলার বলেন, ‘এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে মডেলদের চাহিদা কমতে পারে। কিন্তু এর ক্ষতিকর প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্য আরেকটি অ্যাপ আছে— যার মাধ্যমে ভিডিও নকল করা সম্ভব এবং প্রকৃতপক্ষে একজনের মুখ দিয়ে এমন কথা বলানো সম্ভব, যা সে কোনও দিন বলেনি।’

মিলার র‌্যান্ড করপোরেশনের একটি জরিপ উদ্ধৃত করে বলেন, ‘ছাত্রদের এই ধরনের জ্ঞান দরকার। এর মাধ্যমে তারা তথ্য যাচাই করতে পারবে, পক্ষপাতিত্ব চিহ্নিত করতে পারবে এবং প্রকৃত চিত্র থেকে মিথ্যা তথ্য আলাদা করতে পারবে। আমি একদশক আগে নিউজ লিটারেসি প্রজেক্ট চালু করেছি। নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক ছাত্রদের ডিজিটাল যুগে কী বিশ্বাস করতে হবে এবং কীভাবে ও চেকোলজির মাধ্যমে কোন পদ্ধতিতে বিশ্বাস করতে হয়— সেই প্রক্রিয়াটি শেখাচ্ছি।’

চেকোলজির মৌলিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় দেওয়া হয়, কিন্তু উচ্চশিক্ষার জন্য প্রত্যেক ছাত্রকে তিন ডলার প্রদান করতে হয়। এই পদ্ধতি গ্রেড ৫ থেকে ১২ ক্লাসের ছাত্রদের জন্য। ২০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই জ্ঞান অর্জন করে কোনটি সত্যি ঘটনা এবং কোনটি বানানো গল্প, তারা সেটি  বুঝতে সক্ষম হবে। এর জন্য বিশেষ কোনও সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয় না এবং এটি যে-কেউ শিখতে পারে বলেও তিনি জানান।