ঢাকা, ২৬ জুন, ২০১৯ || ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
১২৯১

বিমান ও পর্যটন খাতই দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

ট্যুরিজম করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২ মে ২০১৬   আপডেট: ১২ মে ২০১৬


ঢাকা: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর‌্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, “এভিয়েশন ও ট্যুরিজম বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করছি সাফল্যের সঙ্গে সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআিইপি লাউঞ্জে ‘প্রি-বাজেট ডিসকাসান’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম জার্নালিষ্টস ফোরাম(এটিজেএফবি), ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(টিওএবি) ও এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট বাংলাদেশ(এটিএবি) এ সভার আয়োজক।

মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, “অর্থ ছাড়া কোন কিছু হবে না। সকাল থেকে অর্থের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। সেটুকু এচিভমেন্ট নিয়ে এখানে এসেছি।”

২০১০ সালে এটাকে শিল্পনীতিতে থার্ড সেক্টর হিসেবে দেখা হলো, কিন্তু এবারও থার্ড সেক্টর হিসেবে আছে। কিন্তু যে উপলব্ধির জায়গা থেকে পর‌্যটন শিল্পকে দেখা দরকার সেই দিক থেকে এটাকে দেখা হচ্ছে না। যদিও খালি চোখে দেখছি প্রচুর আভ্যন্তরিন ট্যুরিষ্ট সারা বাংলাদেশে এখন পর‌্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে বড় ধরনের ভুমিকা পালন করছে।”

কিন্তু এটাকে পরিকল্পিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সব সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি ধর্মীয় সন্ত্র্যাসবাদের কথা বলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এতে কিছুটা অফ সাইডে পড়ে গেছি।”

বাইরে থেকে প্রচুর নেতিবাচক প্রচারনা চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, নেতিবাচক প্রচারনা থেকে দেশের ভাবমূর্তিকে বাইরে নিয়ে আসতে দেশের পর‌্যটন শিল্পকে সবাই মিলে এগিয়ে নিতে হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান বলেন, “দেশের মঙ্গলের জন্য দেশের ভাবমূর্তি বাইরে উজ্জল করতে বর্তমান সরকার কাজ করছেন।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আলোচনা সভায় ট্রাভেল এজেন্টরা দাবি করলেন, পর‌্যটন ব্যবসায় যারা জড়িত তাদের জন্য আলাদা রং,নম্বর প্লেট,রুটপারমিটের আওতায় পর‌্যটকবাহী গাড়ি আমদানির ব্যবস্থা করা, এই ব্যবসায় যারা জড়িত তারা যেন সিআইপি সুবিধা প্রদান, আর্থিক সহযোগিতা, এফসি একাউন্ট খোলা, লেনদেন ও বিদেশে টাকা পাঠানোর বিড়ম্বনা, পর‌্যটন স্থাপনা তৈরির জন্য জমি বরাদ্দের প্রসঙ্গ এসেছে।”

এই বিষয়গুলো সমাধান করে দেব এটি বলছি না তবে যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে সংম্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরিতে পাশে থাকব বলেও সভায় উপস্থিত সবাইকে আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সিপিডি, টিওএবি ও এটিএবি’র তিনজন কর্মকর্তা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে সিপিডি’র এডিশনাল ডিরেক্টর ড.খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পর‌্যটন খাতের বরাদ্দে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসার দাবি রাখে। তবে পর‌্যটন বর্ষের প্রচারনায় তেমন নজর দেয়া হচ্ছে না। এখানে সরকারের গুরুত্ব দেয়া দরকার। আগামীতে বাংলাদেশে প্রচুর পর‌্যটক আসবেন। এজন্য পর‌্যটন মন্ত্রনালয়ের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া দরকার।

টোয়াবের(টিওএবি) পরিচালক মাসুদ হাসান বলেন, পর‌্যটন একটি শিশুর মত শিল্প। একে সুন্দরভাবে লালন করা না গেলে ভাল কিছু আশা করা যাবে না। বাংলাদেশে পর‌্যটন পন্য কি হতে পারে, কিভাবে বিপনন করতে হবে, দেশ বিদেশে ক্রেতা কারা এই সংক্রান্ত কোন গবেষনা নেই। এটির বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

যারা দীর্ঘদিন ধরে পর‌্যটন শিল্প নিয়ে কাজ করে আসছে তাদের ঋণ দেয়া সম্ভব হলে এ খাতের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ অপার সম্ভানার দেশ। প্রকৃতি নির্ভর পর‌্যটন নিয়ে যারা কাজ করতে চান তাদের উৎসাহিত করতে হবে।” বলেন তিনি।

(এটিএবি) এর ফাইন্যান্স সেক্রেটারী মোহাম্মদ মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে পর‌্যটন শিল্পে ৫শ কোটি টাকার বাজেট দরকার, ট্যুরিষ্ট স্পটে প্রাইভেট হেলিকপ্টার চালু, ট্যুরিজম ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আলাদা ইনটেনসিভ দেয়া, বিদেশী পর‌্যটকের চাহিদা অনুযায়ি ট্যুরিষ্ট স্পটের নিরাপত্তা নিাশ্চিত, দেশের ভেতর ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে মেলার আয়োজন করা যেতে পারে।”

পর‌্যটনের সঙ্গে যারা জড়িত বিভিন্ন এয়াপোর্টে তাদের ডেস্ক থাকতে পারে। সেখানে বিদেশী ট্যুষ্টিদের জন্য গাইড বই থাকবে। বিদেশ থেকে কেউ আসলে এই গাইডগুলো দেখলে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্যুরিষ্ট স্পট দেখতে উৎসাহিত হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও আখতারুজ্জামান খান কবির, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি চেয়ারম্যান ইহসানুল গনি, এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম জার্নালিষ্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি নাদিরা কিরন, সহ সভাপতি মুজিব মাসুদ, সাধারন সম্পাদক তানজিম আনোয়ার, বাংলাদেশ বিমানের জিএম (সেলস) কাজী আহসান, টোয়োবের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদুজ্জামান, এটিএবি এর সাধারন সম্পাদক আসলাম খান প্রমুখ।