ঢাকা, ২৫ জুন, ২০১৯ || ১১ আষাঢ় ১৪২৬
১১৮২

ভারতের পর্যটনে বেশি অবদান বাংলাদেশের

ট্যুরিজম করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ৭ মে ২০১৬   আপডেট: ১১ মে ২০১৬


ভারতের পর্যটন খাতে বাংলাদেশের অবদান সবচেয়ে বেশি। পর্যটন খাত থেকে ভারতের আয় ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১৫ সালের মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে ভারতে পর্যটকের সংখ্যা ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। পর্যটন খাত থেকে দেশটির আয়ের প্রধান উত্স হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান। খবর এক্সপ্রেস ট্রাভেল ওয়ার্ল্ড।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক (রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া) থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের (বিওআই) তথ্যের সমন্বয় করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের হিসাবের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান সন্নিবেশিত করা হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী পর্যটকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে এমন তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে পর্যটন খাত থেকে ভারতে আয় হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। এ সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৮ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন। ২০১৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ২৯ হাজার এবং ২০১৪ সালে ৬ লাখ ৯০ হাজার। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটিতে পর্যটন খাত থেকে আয় বেড়েছে ১০ শতাংশ। এ আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশী পর্যটকরা। এ সময়ে ভারত ভ্রমণে যাওয়া মোট পর্যটকের মধ্যে ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশই ছিল বাংলাদেশী। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে এ দুটি দেশের নাগরিক ছিল যথাক্রমে ১৩ দশমিক ১৬ ও ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর কেউই শতাংশের হিসাবে দুয়ের কোটা পেরোতে পারেনি।

বাংলাদেশে পর্যটন খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করায় আগের তুলনায় অনেক বেশি বাংলাদেশী ভারত ভ্রমণ করছেন। মূলত চিকিত্সাসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে বাংলাদেশীরা ভারত ভ্রমণ করছেন। এছাড়া পড়াশোনা, বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করাসহ ভ্রমণের সব ক্যাটাগরিতেই ভারতে বাংলাদেশীদের যাতায়াত বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে ‘ভিজিটিং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি’ ক্যাটাগরিতে।

ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশীকে ভারতীয় ভিসা দেয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের (আইভিএসি) ঢাকার গুলশান, মতিঝিল, ধানমন্ডি ও খুলনা কেন্দ্রে পর্যটক ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণীতে আবেদনের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাতের সময় প্রয়োজন হচ্ছে না। এছাড়া সাক্ষাতের সময় ছাড়াই সরাসরি আবেদন জমা দিতে পারছেন ভিসাপ্রার্থীরা।

এ বিষয়ে ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান ক্যারাভান বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান বলেন, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চিকিত্সার প্রয়োজনে প্রচুর বাংলাদেশী ভারত ভ্রমণ করছেন। মূলত বাংলাদেশের চিকিত্সাসেবার ওপর আস্থা হারানোয় এ প্রবণতা বাড়ছে। চেন্নাইয়ে অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেগুলোর বিদেশী রোগীর প্রায় অর্ধেকই যায় বাংলাদেশ থেকে। তাছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও সেবার তুলনায় চিকিত্সা ব্যয় কম হওয়ায় অনেকেই ভারতে যাচ্ছেন।